দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা,
খেলাপি ঋণ
খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আইনের পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড হয়েছে। ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০.২ শতাংশ। আলোচ্য সময় শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২৫-৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।
রিট করে খেলাপি ঋণ স্থগিত রাখার যে প্রবণতা চালু আছে এই সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারা।
খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ও আর্থিক খাতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা সফররত বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) অ্যানা বেজার্ড।
খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং অযোগ্য কোম্পানিগুলোকে ঋণ দেয়ার চাপের কারণে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)।
শনিবার (১৫ জুলাই) ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ আয়োজিত ব্যাংকিং খাতের সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনলাইন আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বেড়ে ১ কোটি ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ঋণ যেন খেলাপি বা অনাদায়ী না হয়ে যায়, সেজন্য সতর্ক নজরদারি বজায় রাখতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ।